প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
৩০তম ও ৩১তম বিসিএসে পিএসসির সুপারিশ ছাড়াই অবৈধপন্থায় মোট ৪১ জনকে ক্যাডর পদে নিয়োগ দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগকৃত এসব ব্যক্তিরা শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ বা আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান বিধায় এই নিয়োগ পান।
পরিবার পরিকল্পনা ফেনী জেলা অফিসে স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা সাহেদা হোসেন এখনও বহাল রয়েছেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্য্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২৯তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধপন্থা অবলম্বন করে ২১ জন ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের বিষয়টি এখন তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক প্রথমবার এসব কর্মকর্তা নন-ক্যাডার তালিকায় থাকলেও পরবর্তীতে আলাদা গেজেট প্রকাশ করে এসব কর্মকর্তা কে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৮ জন নারীকে ৩০তম বিসিএসের অধীনে নিয়োগ, এবং বাকি ২৩ জনকে ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মেধাভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই দুই বিসিএসে ক্যাডার সার্ভিসের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তদের মূল তালিকা প্রকাশের কয়েক মাস পর সেই সময়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার স্বাক্ষরিত আলাদা গেজেট জারি করে এই ৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সেই সময়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কিছু কর্মকর্তা ও পিএসএসসির কিছু সদস্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সিন্ডিকেট দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক টাকা কামিয়ে নে য়।
৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৮ নারীকে অবৈধ নিয়োগ
২০১২ সালের ১৭ মে তারিখে ৩০তম বিসিএসের মূল গেজেট প্রকাশিত হয়। সেই গেজেটে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশকৃত ২ হাজার ২৬২ জনের নাম ছিলো। এর পাঁচ মাস পর একই বছরের ২৩ অক্টোবর তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৮ জন নারীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য একটি পৃথক গেজেট জারি করে। যদিও তাদের নাম ইতোপূর্বে নন-ক্যাডার তালিকায় ছিল।
ওই ১৮ নারীর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে চারজন- নাসরিন আক্তার, রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী, সুবর্ণা রানী সাহা এবং পারভীন সুলতানা; পুলিশ ক্যাডারে দুইজন- মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ও শামিমা নাসরিন; নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে দুইজন- পাপিয়া মনোয়ারা এবং শর্মীলা নাজনীন; আনসার ক্যাডারে দুইজন- হোসনে আরা হাসি এবং মৌসুমী আক্তার; পরিবার পরিকল্পনায় তিনজন- ইন্দ্রানী দেবনাথ, সাহেদা হোসেন ও কাজী মমতাজ বেগম; তথ্য ক্যাডারে চারজন- শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতি, উম্মে ফারহানা হোসেন শিমু, শাহিদা মঞ্জুরী ও জিনাত আরজু মুক্তা; এবং জুবাইদা খানম (শুল্ক ও আবগারি) নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
৩০তম বিসিএসে দু'বার গেজেট হওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় ও পিএসসির কর্মকর্তারা এটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।
ফেনী জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক সাহেদা হোসেন ঘুরফিরে দীর্ঘদিন ফেনীতে কর্মরত থাকার ফলে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। চট্রগ্রাম বিভাগের পরিচালক ও ফেনী জেলার উপপরিচালককে ম্যানেজ করে সাহেদা হোসেন নিয়ম বহির্ভূত বদলী বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
২৪ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তাকে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ফেনী থেকে কক্সবাজার বদলী করা হয়। বদলীর একমাসের মাথায় সাহেদা হোসেন পুণরায় ফেনীতে বদলী হয়ে আসেন। এরপরই সাহেদা হোসেনের পরামর্শে পুরোনা সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠে।
বর্তমান পরিচালক ফেনীতে চাকুরীকালীন সময়ে ফেনী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নার্সদের বিশ্রামাগার প্রভাব খাটিয়ে দখল করেন। একেই অবস্থায় বর্তমান উপপরিচালকও সেটি দখলে রেখেছেন। এতে সরকার থেকে প্রাপ্ত বাসাভাড়া আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে একজন মূল পদের হিসাব রক্ষক থাকলেও তাকে উপেক্ষিত করে সংযুক্তি আদেশে আরেক জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বদলী বাণিজ্য, অনিয়মের ফাঁক ফোকর জানা বিশ্বস্থ লোককে এই পদে পদায়ন করা হয় সিন্ডিকেট সদস্যদের স্বার্থে। এসব ব্যাপারে পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এসব সত্য নহে।